২ দিন আগে বলেছিলাম আমার ক্লায়েন্টের বিজনেরসের ওয়েবসাইটের SEO কেস স্টাডি করব কিনা? অনেকে এই বিষয়ে বেশ ভালো আগ্রহ দেখিয়েছেন। তাই এর উপর বিস্তারিত কেস স্টাডি লিখলাম।ক্লায়েন্টের অনুমতি না থাকায় সাইটের কোন ইনফরমেশন, এনালিটিক্স রিপোর্ট শেয়ার করতে পারছি না। তবে কীওয়ার্ড র্যাংকিং রিপোর্টের একটা স্ক্রীনশট শেয়ার করেছি।
সাইটের কিছু তথ্যঃ
নিশঃ Finance and Compliance
লোকেশনঃ United Kingdom
ক্লায়ন্টের বাজেটঃ ২০০০ পাউন্ড (প্রায় ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা)
আমার খরচঃ ৯২,৩৫০ টাকা।
CMS: WordPrss
Theme: GeneratePress
শুরু থেকে শেষ করা পর্যন্ত সময়ঃ ২৮ দিন
চলুন এবার বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। আপনাদের বুঝার সুবিধার্থে আমার কাজগুলোকে ধাপে ধাপে বর্ণনা করছি।
স্টেপ ১ - সাইট অডিটঃ
প্রথমে ক্লায়েন্টের সাইট ahrefs ওয়েব মাস্টার (ফ্রী টুল) দিয়ে অডিট করি। তখন হেলথ স্কোর ছিল ৫৭%। ক্লায়েন্টকে অডিট রিপোর্ট পাঠাই। ক্লায়েন্টের গ্রীন সিগনাল পেয়ে অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী ফিক্স শুরু করি। ১ দিনেই আমি পুরো সাইটের সব সমস্যা ফিক্স করে হেলথ স্কোর ১০০% নিয়ে আসি।
এর পর আমি SEMrush পার্সোনাল (১৪ দিনের ট্রায়াল) একাউন্ট নেই এবং সেটা দিয়ে আবারও অডিট করি। semrush দিয়ে অডিট করে আরো কিছু সমস্যা পাই। সেগুলোও ফিক্স করি।
স্টেপ ২ - কীওয়ার্ড রিসার্চঃ
অডিট করার পর ক্লায়েন্ট থেকে কীওয়ার্ড চাই যেগুলো সে র্যাংক করতে চায়। সে আমাকে প্রায় ২৬ টি কীওয়ার্ড দেয়। সেগুলো semrush দিয়ে চেক করে দেখি সেগুলোর সার্চ ভলিয়ম এবং kd অনেক হাই। যে গুলো র্যাংক করা অনেক কঠিন এবং সময় সাপেক্ষ।
ক্লায়েন্টের সাথে দ্বিতীয় মিটিং করে এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করি। সে শুরুতেই আমার কথা শুনে কিছুটা হতাশ হয়ে যায়। কিন্তু আমি তাকে পরে আশার বানী শোনাই।
আমি তাকে লো কম্পিটিটিভ লং টেইল কীওয়ার্ড সাজেশন করি যেগুলোর সার্চ ভলিয়ম এভারেজ ৩০০-৪০০ এর মত। যদি এমন ২০ টা কীওয়ার্ড র্যাংক করে তাহলে সে ১ মাসে প্রায় ২০০০ এর মত ভিজিটর পাবে। আরো বেশি কীওয়ার্ড ধীরে ধীরে র্যাংক করতে থাকবে। সেই সাথে সাইটেও ভিজিটর বাড়তে থাকবে।
একটা উদাহরণ দিয়ে বুঝাচ্ছিঃ
ক্লায়েন্টের কীওয়ার্ডঃ
financial audit service
আমার রিসার্চ করা কীওয়ার্ডঃ
financial audit service for small business
financial audit service for small business in uk
financial audit service for professionals
financial audit service in uk
financial audit service provider in uk
how to choose best financial audit service in the uk
how to choose best financial audit service in london/manchester (city name)
পাশাপাশি WriterZen টুল দিয়ে কীওয়ার্ড গোল্ডেন রেশিও (KGR) বের করি যেগুলো আমি ১-২ মাসের মধ্যে র্যাংক করতে পারব।
এভাবে দেখানোর পর সে কাজ শুরু করতে বলে। আমি তার সাথে আমার কাজের ডিটেইলস প্লানিং শেয়ার করে দেখাই। সে আমার প্লানিং পছন্দ করে। এরপর আলোচনা করে বাজেট নির্ধারণ করি। ক্লায়েন্টকে বুঝাতে বেশি সমস্যা হতো না। কারণ সে SEO সম্পর্কে বেসিক জানত।
স্টেপ ৩ - কন্টেন্ট ডেভলাপমেন্টঃ
কন্টেন্ট বলতে টেক্সট কন্টেন্ট বুঝিয়েছি। কন্টেন্ট ডেভলাপমেন্টের শুরুতে টেক্সট কন্টেন্ট নিয়ে একটা প্ল্যানি করি। ১৭ টা নতুন পেইজ এবং ৪৫ টা ব্লগ পোস্ট করার জন্য কন্টেন্ট প্লানিং করি এবং ক্লায়েন্টের সাথে সেটা শেয়ার করি। ক্লায়েন্টের গ্রীন সিগনাল পেয়ে রাইটার হায়ার করি। রাইটারের সাথে কথা হয় আমার লেখার সময় অন্য কারো কাজ করা যাবে না। একবারে টপ নচ কন্টেন্ট হতে হবে। রাইটার যে বাজেট দেয় তাতেই আমি রাজি হয়ে যাই। কিন্তু আমার কথা একটাই কোয়ালিটি যেন ফল না করে।
কন্টেন্ট কোয়ালিটি কিভাবে নির্ধারন করিঃ
কন্টেন্ট ইনফরমেটিভ কিনা
কন্টেন্টে যথেষ্ট রেফারেন্স আছে কিনা
কন্টেন্ট টোন প্রফেশনাল/ইউজার ফ্রেন্ডলি কিনা
কন্টেন্ট SEO র্যাংকিং ফ্যাক্টর গুলো মেনটেইন করে কিনা
কন্টেন্টে প্লাগারিজম/কপি মুক্ত কিনা
কন্টেন্টে AI Detect মুক্ত কিনা
কন্টেন্টের লেন্থ কম্পিটিটর থেকে বড় কিনা।
আমি নিজেও একজন কন্টেন্ট রাইটার। কিন্তু আমি লিখতে গেলে অনেক সময় লেগে যেত। তাই রাইটার হায়ার করে নিয়েছি। রাইটারকে একবারে সব কিছু ডিটেইলস ব্রিফ করে দিয়েছি। রাইটার তার সবটুকু ডেডিকেশন দিয়ে লিখেছে। আমি প্রতিটি কন্টেন্ট শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে দেখেছি।
On Page SEO করার জন্য RankMath SEO প্লাগিন্স ব্যবহার করেছি। প্রতিটি কন্টন্টের স্কোর ৯০+ রাখার চেষ্টা করেছি।
স্টেপ ৪ - লিংক বিডিংঃ
লিংক বিডিং করার জন্য আমি তেমন বেশি এফোর্ট দেইনি। বেসিক ব্যাকলিংক এবং কিছু গেস্ট পোস্ট করেছি। যে যে লিংক বিডিং করেছিঃ
প্রোফাইল ব্যাকলিংকঃ ৩৩ টা
UK বেজড লোকাল ডিরেক্টরী সাবমিশনঃ ২৫ টা
গেস্ট পোস্টঃ ১২ টা
ওয়েব ২.০ ব্যাকলিংকঃ ১৩ টা
সব মিলিয়ে মোট ৮৩ টা ব্যাকলিংক করেছি। গেস্ট পোস্ট করার জন্য ফিনান্স রিলেটেড প্রায় ১০০ এর বেশি সাইটের লিস্ট করেছি যে গুলোর DA/PA ভালো এবং স্প্যাম স্কোর ০ বা ১। সবগুলোকে AI দিয়ে কন্টেন্ট লিখে ইমেইল করি। এর মধ্যে ১২ টা এপ্রুভ হয়েছে।
ওয়েব ২.০ নিজে করিনি। একজনকে কন্টাকে এই কাজ দিয়ে দেই। সে ২ দিনে আমাকে আলাদা ১৩ টি web 2.0 সাইট থেকে ব্যাকলিংক দেয়।
ব্যাক লিংকের জন্য আমি রেফারেন্স ডোমেইন কাউন্ট করি। টোটাল ব্যাকলিংক কত সেটা কাউন্ট করি না। ক্লায়েন্টের সাইটের মোট রেফারিং ডোমেইনঃ ৮৩।
স্টেপ ৫ - সাইটের UI, লোডিং স্পীড এবং স্ট্রাকচারঃ
একটা সাইটের টোটাল SEO স্কোর যদি ১০০ হয় তার মধ্যে সাইটের ইউজার ইন্টারফেস (UI), লোডিং স্পীড এবং স্ট্রাকচার ৩০%। আর On Page SEO, Technical SEO & Off page SEO স্কোর ৭০%। কিন্তু আমরা সবাই ৭০% স্কোরেই বেশি জোড় দেই। ৩০% এ জোড় না দেওয়ার কারণেও সাইট অনেক সময় র্যাংক করে না।
আমি কন্টেন্ট (পেইজ, পোস্ট) আপডেট করার পাশাপাশি সাইটের ইউজার ইন্টারফেস এবং সিলো স্ট্রাকচার নিয়ে কাজ করি। সিলো স্ট্রাকচার করা ওয়েবসাইট সহজে গুগল ফিচারে চলে আসে।
সাইটের স্পীড বৃদ্ধির জন্য ShortPixel (free) ব্যবহার করি ইমেজ অপটিমাইজেশনের জন্য, Cloudflare CDN ব্যবহার করি। Fast Velocity Minify প্লাগিন্স দিয়ে CSS এবং JavaScript মিনিমাইজ করি। আর হোস্টিং Litespeed সার্ভার হওয়াতে Litespeed for WordPress প্লাগিন্স ব্যবহার করি।
GTmatrix অনুযায়ী সাইটের সর্বশেষ স্কোর A (94%).
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মোট ২৮ দিন সময় লাগে। ২৮ দিন পর থেকে কাউন্ট ডাউন শুরু করি। প্রথম কীওয়ার্ড ফার্স্ট পেইজে আসে ১৩ দিনের মাথায়।
যেসব টুলস ব্যবহার করেছিঃ
সাইট অডিট এবং কীওয়ার্ড রিসার্চের জন্যঃ Ahrefs webmaster (free), SEMrush (14 days trial ২ টা একাউন্ট)
গোল্ডেন কীওয়ার্ড বের করার জন্যঃ WriterZen (lifetime deal নেওয়া)
কন্টেন্টের গ্রামার এবং টোন আপডেট করার জন্যঃ Grammarly (Group buy)
কন্টেন্ট প্যারাপ্রেসিং করার জন্যঃ WordTune (Group buy)
টেক্সটের কপি/প্লাগারিজম চেক করার জন্যঃ Copyscape (এককালীন ক্রেডিট কেনা)
লেখা AI ডিটেক্ট চেক করার জন্যঃ Originality (ক্রেডিট কেনা)
কীওয়ার্ড ট্র্যাকিং করার জন্যঃ Screpy (life time deal নেওয়া)।
সব কিছু একবারে বিস্তারিত লেখার চেষ্টা করেছি। এরপরও কোন কিছু বুঝতে না পারলে কমেন্ট করে জানাবেন।

Comments
Post a Comment